ফ্রিল্যান্সিং এ কি কি কাজ করা যায়? লিখব বিডি ডট কম !!

 


আসসালামু আলাইকুম

লিখব বিডি এর নতুন একটি পোস্টে আপনাকে স্বাগতম। আজকের পোস্টের বিষয় হলো ফ্রিল্যান্সিংয়ে কি কি কাজ করা হয় তার একটি সম্পূর্ণ ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব। আশা করি ভালো লাগবে। তাহলে শুরু করা যাক।

আজকের পোস্টের বিষয়বস্তু:

টি-শার্ট ডিজাইন
লোগো ডিজাইন
ফটো এডিটিং
ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট
ডাটা এন্ট্রি
ডিজিটাল মার্কেটিং
এডমিন জব

আরো পড়ুন: সেরা ৬ টি এফিলিয়েট মার্কেটিং সাইট যেটির মাধ্যমে আপনি আয় করতে পারবেন মাসে ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার পর্যন্ত!!

ফ্রীলান্সিং শব্দটি অনেকের সাথে পরিচিত একটি শব্দ। আবার হয়তো অনেকে আবার জানেন না। আবার জানলেও এখানে কি কি করা হয় তার সম্পর্কে আমাদের একটু জ্ঞান কম রাখি।

বর্তমান সময়ে ফ্রীলান্সিং খুব জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এটির মাধ্যমে আপনি বাড়িতে বসেই কম্পিউটারের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। কিন্তু অর্থ উপার্জনের জন্য আপনার যে যে জিনিস জানা দরকার তানাজানলে সেখান থেকে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব হবে না।

ফ্রীলান্সিং ওয়েবসাইট গুলোতে কাজের পরিমাণ এত বেশি যে আপনি কোন কাজ কোনটির মাধ্যমে করতে হয় টানিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকবেন। তাই কোনটি কোন কাজ অনুযায়ী একজন ফ্রীল্যান্সার ওয়েবসাইট গুলোতে কাজ করতে হয় তার একটি সম্যক ধারণা দিতে চেষ্টা করব।

বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বেকার যুবক যুবতী তাদের নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। কেননা দক্ষতার মাধ্যমে যেকোনো স্থানে বসে এই কাজগুলো করা হয়। তাছাড়াও ছেলে মেয়ে গৃহিণী ছাত্র-ছাত্রী সকলে এই কাজ সহজেই করতে পারে যার মাধ্যমে তাদের পরিবারের খরচ মিটিয়ে ও তারাও উপার্জন করতে পারে।

আরো পড়ুন: কিভাবে বাড়িতে বসে লিখব বিডি থেকে মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন ।

যাহোক কথা না বাড়িয়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ে কি কি কাজ করা যায় নিচে তার একটি তালিকা দেয়া হলো:

টি-শার্ট ডিজাইন

আমাদের চারপাশের মানুষের মধ্যে টি শার্ট এর ব্যবহার ক্রমশই দিন দিন বাড়ছে। ফলে টি-শার্টের চাহিদা ক্রমশ বৃদ্ধির মাধ্যমে এর ডিজাইন এর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমাদের দেশের বিভিন্ন দোকান থেকে যখন আমরা টি-শার্ট ক্রয় করি তখন এই টি-শার্ট কেউ-না-কেউ ডিজাইন করে থাকে।

 ফলে টি শার্ট ডিজাইন এর জন্য অনেকগুলো ওয়েবসাইট টি শার্ট ডিজাইন করে এরকম লোকদেরকে হায়ার করে। যার মাধ্যমে ওই কোম্পানি এবং ডিজাইনার উভয়ই লাভবান হয়। তাই কেউ যদি টি শার্ট ডিজাইন এর সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকে তাহলে সে মার্কেটপ্লেসে টি-শার্ট ডিজাইন করার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারবে।

লোগো ডিজাইন

ফ্রিল্যান্সিংয়ে আপনি লোগো ডিজাইনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। বর্তমানে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানই একটি একক ও অদ্বিতীয় লোগো ব্যবহার করে থাকে। শুধু প্রতিষ্ঠান নয় এখন বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ফেইসবুক, ইউটিউব চ্যানেল সহ সকল তাদের জন্য লোগো ডিজাইন করে থাকে।

ফলে এর চাহিদা যত দিন যাচ্ছে ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে আপনি যদি লোগো ডিজাইন সম্পর্কে জানেন বা করতে পারেন তাহলে আপনি এই কাজটি সহজেই করতে পারেন।

ফটো এডিটিং

ফ্রিল্যান্সিং এর কাজের মধ্যে ফটো এডিটিং হল সবচেয়ে সহজ কাজ। বর্তমানে প্রত্যেকটি অনুষ্ঠান বা কোন ব্যক্তিগত কাজের জন্য একটি ফটো দরকার হয় যা কেউ না কেউ এডিট করে থাকে। ফটো এডিটিং এর কাজ যত দিন যাচ্ছে ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ একজন ব্যক্তি তার স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য তার ছবিটি এডিট করে থাকে।

আপনি যদি ফটো এডিট সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখেন তাহলে এটি অনলাইনে আপনার পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন ।আশা করি এই সেক্টরে আপনি ভাল করবেন।

ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট

ফ্রিল্যান্সিং এর দুনিয়ায় দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে যে সকল কাজ সম্পাদন করা হয় যেমন গ্রাফিক্স ডিজাইন, অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, ডাটা এন্ট্রি কাজ এরমধ্যে ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট কাজ একটি।

ইন্টারনেটের প্রাণ হল একটি ওয়েবসাইট। কোন ওয়েবসাইট ছাড়া কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান অগ্রগতি খুব সীমিত পরিসর এগিয়ে যায়। তাই কোন ব্যবসা প্রতিষ্টান বা কোন ব্যক্তি গত চাহিদা অনুযায়ী ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়ে থাকে। শুধু কোন ওয়েবসাইট তৈরি করলেই হয়না বরং এর জন্য একজন ডেভেলপার হায়ার করার প্রয়োজন হয়। যে এটির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করবে।

ফলে অনলাইনে আপনি ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। তাই অনলাইন থেকে আয় করার কোন উপায় খুঁজে থাকেন তাহলে আপনি ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট এর কাজ শিখতে পারেন।

ডাটা এন্ট্রি

ফ্রিল্যান্সিং এর আরেকটি জনপ্রিয় কাজ হল ডাটা এন্ট্রির কাজ করা। আপনি একটি কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেকোনো লেনদেনের কাজ সুষ্ঠুভাবে লিপিবদ্ধ করার জন্য ডাটা এন্ট্রির প্রয়োজন অপরিসীম। তাই কোন ব্যক্তি যদি ডাটা এন্ট্রি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখেন তাহলে আপনি ডাটা এন্ট্রির কাজ গুলো ফ্রিল্যান্সার হিসেবে করতে পারেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং

বর্তমানে ফ্রিল্যান্সারদের সবচেয়ে জনপ্রিয় কাজটি হলো ডিজিটাল মার্কেটিং। ডিজিটাল মার্কেটিং হল এমন একটি পেশা যার মাধ্যমে আপনি কোন পণ্য বা সেবা বিক্রয় করার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

এছাড়াও ডিজিটাল মার্কেটিং করার মাধ্যমে আপনার নিজস্ব পণ্যের প্রচারণার পাশাপাশি আপনি কোন প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা সম্পর্কে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে কমিশন অর্জন করতে পারবেন। বর্তমানে একজন ডিজিটাল মার্কেটিং বছরে প্রায়(আনুমানিক) ৩০ লক্ষ টাকার মতো কাজ করে থাকে।

তাই আপনার যদি ফ্রিল্যান্সিং করার ইচ্ছা থাকে তাহলে আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ শেখার মাধ্যমে আপনি অনলাইন থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট

বর্তমানে আপনি বিভিন্ন রকম অ্যাপ্স তৈরি করে বা অন্য যে কোন অ্যাপস রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করার মাধ্যমে আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারেন। কেননা বর্তমানে এন্ড্রোয়েড বা আইফোন যাইহোক সবারই নিজস্ব অ্যাপ থাকে যারা তাদের ব্যবহারকারীদের কাজ সহজ করার লক্ষ্যে তৈরি করে থাকে।

এডমিন জব

প্রত্যেকটি অফিসেই অভিযোগ রয়েছে ফলে ভার্চুয়ালি এখনো আপনি যেকোনো স্থানে বসে থেকে এডমিন হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ঘরে বসে এডমিনের কাজগুলো সম্পাদন করে অর্থ উপার্জন করতে পারছে।

ভাই আপনি যদি এডমিন জব গুলো করতে পছন্দ করেন তাহলে আপনি এডমিন হিসেবে কাজ করে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন।

আরো পড়ুন: সেরা ৬ টি উপায় আপনি আপনার প্রথম ইনকাম অনলাইন থেকে করুন!!

উপরে উল্লেখিত কাজগুলো ছাড়াও বর্তমানে আরও হাজার হাজার কাজ রয়েছে অনলাইনে যার মাধ্যমে আপনি একটি মার্কেটপ্লেসের জয়েন করার মাধ্যমে আপনার দক্ষতা অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন। সেটি আবার কোন ইনভেস্ট না করার মাধ্যমে তাই দেরি না করে উপরের যে কোন একটি কাজ শিখে আপনিও বাড়িতে বসে থেকে অর্থ উপার্জনের কাজ শুরু করতে পারেন।

আরো একটি কথা পোস্টটি ভাল লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এবং লিখব বিডির সাথে থাকুন।

ধন্যবাদ

Leave a Comment